
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে বেড়েছে চুরি। এতে করে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডসহ কয়েকটি এলাকায় চোরের উপদ্রব বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ কবির বিশ্বাস জানান, গত শনিবার (২ মে) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তার গোয়ালঘর থেকে গরুর অস্বাভাবিক শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। দ্রুত বাইরে এসে তিনি দেখতে পান, তার দুটি গরুর গলার রশি কাটা। এসময় তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তবে ততক্ষণে চোরের দল পালিয়ে যায়। পরে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখা যায়, সব গরুর রশি কেটে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার প্রায় দুই লাখ টাকার গরু অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি একই এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে চোরেরা ধরা পড়লেও আইনের ফাঁক গলে আবার বেরিয়ে এসে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আজিজ বিশ্বাস জানান, কিছুদিন আগে তার বাড়িতে সংঘটিত একটি বড় ধরনের চুরির ঘটনায় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার নগদ অর্থ ও মালামাল লুট করা হয়। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি দুইজনকে শনাক্ত করেন। পরে তিনি বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করলে একজন গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খাটেন। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবারও সংঘবদ্ধ হয়ে চুরির সাথে জড়িত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, এই চক্রটি বিভিন্ন বাড়িতে চুরি ছাড়াও মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ, রাইস মিলের যন্ত্রাংশ, ধান, মাছ এবং পোল্ট্রি ফিড চুরির সাথে জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে বাওন শিরাজের বাড়ি থেকে মোবাইল ও টাকা, শিরাজ বালির রাইস মিল থেকে ইলেকট্রিক মটর ও চালের বস্থা, সাজাহান হাওলাদারের বাড়ি থেকে ধান এবং ছলেমান বিশ্বাসের খামার থেকে ফিশ ফিড চুরির ঘটনা।
স্থানীয়রা জানান, একসময় এলাকায় চুরির ঘটনা খুবই কম ছিল এবং মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতেন। কিন্তু বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যা আধুনিক সমাজে মেনে নেওয়া কঠিন। এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা চোরচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আলতাফ হোসেন অনিক 









