ঢাকা ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতেকাফরত মুসল্লিদের উপর মসজিদে পেট্রোল ঢেলে আগুন

রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফরত মুসল্লিদের থাকা অবস্থায় ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের একটি মসজিদে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

রমজানের পবিত্র সময়েও ভারতে আরেকটি উদ্বেগজনক সাম্প্রদায়িক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। দেশটির হরিয়ানা রাজ্যের পালওয়াল জেলার টিকরি ব্রাহ্মণ গ্রামের একটি মসজিদে গভীর রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র ও ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতের আঁধারে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি মসজিদের জানালা ভেঙে ভেতরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনাটি ঘটে ১০ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটের দিকে।

সে সময় মসজিদের ভেতরে ইতেকাফে অবস্থান করছিলেন ইমাম জুবায়ের ইমাম এবং আরও তিনজন মুসল্লি—ইকবাল, হানিফ ও সোহেল। ধোঁয়া ও তীব্র তাপ অনুভব করে তারা ঘুম থেকে জেগে ওঠেন এবং দ্রুত সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে শুরু করেন।

তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর ইমাম জুবেরের অভিযোগের ভিত্তিতে রামরূপ নামের এক ব্যক্তিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে পালওয়ালের পুলিশ সুপার ভারুন সিংনঙ্গা জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে বিশেষ অপরাধ ইউনিট ও সাইবার সেলকে যুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের মুখপাত্র সানজয় কুমার জানান, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, গত কয়েক বছর ধরেই এলাকাটিতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির নানা চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতেও বিভিন্ন অজুহাতে মুসলিমদের হয়রানি করার ঘটনা ঘটেছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এর আগেও জুমার নামাজে বাধা, মসজিদে হামলা, মুসল্লিদের মারধর কিংবা গরুর মাংস বহনের সন্দেহে মুসলিমদের ওপর সহিংসতার মতো ঘটনাও আলোচিত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো দেশটির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বিইউ রেডিও’র নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি নাজমুল সম্পাদক ইয়াদুল

ইতেকাফরত মুসল্লিদের উপর মসজিদে পেট্রোল ঢেলে আগুন

Update Time : ০৬:৪৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফরত মুসল্লিদের থাকা অবস্থায় ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের একটি মসজিদে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

রমজানের পবিত্র সময়েও ভারতে আরেকটি উদ্বেগজনক সাম্প্রদায়িক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। দেশটির হরিয়ানা রাজ্যের পালওয়াল জেলার টিকরি ব্রাহ্মণ গ্রামের একটি মসজিদে গভীর রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র ও ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতের আঁধারে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি মসজিদের জানালা ভেঙে ভেতরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনাটি ঘটে ১০ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটের দিকে।

সে সময় মসজিদের ভেতরে ইতেকাফে অবস্থান করছিলেন ইমাম জুবায়ের ইমাম এবং আরও তিনজন মুসল্লি—ইকবাল, হানিফ ও সোহেল। ধোঁয়া ও তীব্র তাপ অনুভব করে তারা ঘুম থেকে জেগে ওঠেন এবং দ্রুত সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে শুরু করেন।

তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর ইমাম জুবেরের অভিযোগের ভিত্তিতে রামরূপ নামের এক ব্যক্তিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে পালওয়ালের পুলিশ সুপার ভারুন সিংনঙ্গা জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে বিশেষ অপরাধ ইউনিট ও সাইবার সেলকে যুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের মুখপাত্র সানজয় কুমার জানান, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, গত কয়েক বছর ধরেই এলাকাটিতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির নানা চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতেও বিভিন্ন অজুহাতে মুসলিমদের হয়রানি করার ঘটনা ঘটেছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এর আগেও জুমার নামাজে বাধা, মসজিদে হামলা, মুসল্লিদের মারধর কিংবা গরুর মাংস বহনের সন্দেহে মুসলিমদের ওপর সহিংসতার মতো ঘটনাও আলোচিত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো দেশটির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।